April 7, 2020, 2:53 am

দাম্পত্য সংকটের কিছু লক্ষণ

দাম্পত্য মানে ভালোবাসার এক অমোঘ বন্ধন। দাম্পত্য মানেই স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে নিষ্প্রাণ বাসা আর আসবাবপত্রের সমষ্টিকে একটা শান্তির ঘর বানিয়ে তোলা। একসঙ্গে স্বপ্ন দেখা, হাসি-কান্না ভাগ করে নেওয়া, সন্তানকে মানুষ করা- এরই নাম দাম্পত্য।

কিন্তু তারপরও দুটো মানুষ সবসময় সব বিষয়ে যে একমত হবেন তা কিন্তু নয়। দুজনের মানসিক গঠন যেহেতু আলাদা তাই চাহিদার ফারাক থাকাটাও খুবই স্বাভাবিক। সেই কারণেই মাঝেমাঝেই দাম্পত্যে দেখা দেয় সংকট। সংকট আর সুখ দাম্পত্যের দুই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

দাম্পত্য সংকটের কিছু লক্ষণ

স্বামী-স্ত্রী একই ছাদের নিচে আছেন, এক বিছানায় ঘুমাচ্ছেন, রুটিন মেনে সংসারের সব কাজকর্ম করেও যাচ্ছেন। কিন্তু কেমন যেন একটা কিছু নেই নেই বোধ। কোথাও যেন একটা ফাঁক। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আর কথাবার্তা কমে এসেছে ভীষণরকম। অথচ অন্যদের সঙ্গে আপনারা আপনাদের কথাবার্তা ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে না কোনো বিষয়সংকট বা উৎসাহের অভাব। শুধু নিজেদের মধ্যেই কথার ভাঁড়ার একেবারেই শূন্য। কয়েকটা কথার পরেই এসে যাচ্ছে তিক্ততা। সম্পর্কের নিস্তব্ধতাই দাম্পত্য সংকটের প্রাথমিক বিপদ সংকেত।

এমনই একটা মোড়ে এসে পৌঁছেছে সম্পর্ক যে স্বামী বা স্ত্রী প্রতিটি কথা বা কাজেই খুঁত খুঁজে পাচ্ছেন। এমনকি তিনি কোনো ভুল না করলেও তা আপনার কাছে ঠিক বলে মনে হচ্ছে না। আর আপনি তার যেকোনো ভুলকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে ফেলে তার চুলচেরা সমালোচনা করছেন। এই ভুল ধরা আর সমালোচনা যখন দুই তরফ থেকেই হতে থাকে, তখন বুঝে নেবেন এবার সময় এসেছে কোনো সমাধান খোঁজার।

আপনার স্বামী অফিসে প্রমোশন পেয়েছেন প্রায় এক মাস হয়ে গেল। অথচ আপনি এই শুভ সংবাদের বিন্দুবিসর্গ জানতেন না। কোনো তৃতীয় ব্যক্তির মুখ থেকে আপনি খবরটা পেলেন। একইভাবে ছুটির দিনে আপনার স্ত্রী তার সহকর্মীদের নিয়ে পিকনিকে যাবেন। কিন্তু আপনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রী তার ব্যক্তিগত অর্জন, সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা সম্বন্ধে অন্যজনকে ক্রমাগত অন্ধকারে রাখছেন। তখনই ধরে নেবেন সম্পর্কে চলছে মারাত্মক সংকট।

কথা বলতে গেলেই ঝগড়া আর অশান্তি বেঁধে যায়। এই ঝগড়া এমনই মাত্রাতিরিক্ত হয়ে উঠেছে যে ছেলেমেয়ে বা কাজের লোকের সামনেও তা শুরু হয়ে যায়। ছোট্ট কথা কাটাকাটিও বড় আকার ধারণ করে ফেলছে। সবার সামনে একে ওপরের পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন, চরিত্র নিয়েও টানাটানি করতে বাধছে না।

দুজনার মধ্যের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান করার জন্য প্রায়ই নিতে হচ্ছে তৃতীয় ব্যক্তির সাহায্য। যেকোনো মনোমালিন্যে সমাধান চাইতে ফোন করতে হচ্ছে প্রিয় বন্ধুকে। দুজনই কেউ কারো কাছে দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়া দূরের কথা ব্যাপারটা মিটমাট করতেও ইচ্ছুক নন।

সারাদিন পর অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে ইচ্ছা হয় না। ইচ্ছা হয় অন্য কোনো প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাজের শেষে সময়টা কাটিয়ে দিতে। বাসায় বা সংসারে ফেরার অনীহা সম্পর্কে ভাঙন ধরার পূর্ব লক্ষণ।

সবসময় ছুটির দিনগুলোতে দুজন মিলে সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে যেতেন। কিন্তু এখন একেবারেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। দুজন মিলে টাকা জমিয়ে একটা ফ্ল্যাট কিনতে চেয়েছিলেন কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ফ্ল্যাট কেনারই প্রয়োজন নেই। যে কাজগুলো দুজন মিলে করতেন বা করার পরিকল্পনা করেছিলেন, সেই কাজগুলোর ব্যাপারে পুরোপুরি নিরুৎসাহী হয়ে যাওয়া মানেই তা দাম্পত্য সংকটের অন্যতম লক্ষণ।

Comments are closed.


     এই জাতীয় আরো খবর