May 26, 2020, 1:10 pm

তিনি প্রবাসে, পুলিশ বলছে গতকাল গাড়িতে আগুন দিয়েছে

কক্সবাজারে ‘গায়েবি ঘটনায়’ বিএনপি-জামায়াতের ১৪৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। রোববার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন চন্দ্র মজুমদার এ মামলা করেন।

এ মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার ৫ নম্বর আসামি লায়েক ইবনে ফাজেল ৩ বছর ধরে কাতারে অবস্থান করছেন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১৩০ জনজনকে। মামলায় মোস্তাক আহমদ নামের একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি সদরের পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য।

মামলার অন্যান্য আসামি হলেন- কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা শহিদুল আলম বাহাদুর, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মো. আলী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন, সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান ফাহিম, যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুল আলম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাশেদুল হক রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মনির উদ্দিন মনির, জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলাম হাসান, শ্রমিক নেতা এমইউ বাহাদুর, সাবেক শিবির নেতা হাসান মো. ইয়াছিন, কাতার প্রবাসী লায়েক ইবনে ফাজেল, সাবেক ছাত্রদল নেতা সরওয়ার রোমন, মহিউদ্দিন সিকদার, শহর ছাত্র দলের সভাপতি এনামুল হক এনাম, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, সদরের খরুলিয়ার তারেক বিন মোকতার ও আয়াত উল্লাহ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, রোববার ভোর ৫টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন সংগঠিত হয়ে ফায়ার সার্ভিস এলাকায় মিছিল বের করে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। এ সময় তারা একটি টমটম গাড়িতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তারা পালিয়ে যায়। ওই সময় একজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। জাতীয় নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের আরও পরিকল্পনা রয়েছে।

মামলার ৫ নম্বর আসামি লায়েক ইবনে ফাজেল ৩ বছর ধরে কাতারে অবস্থান করছেন, তিনি কীভাবে গাড়িতে আগুন দিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে এটা সত্য। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল পুলিশের দায়ের করা মামলাটি ‘সাজানো’ দাবি করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়েছে। তারা চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে গায়েবি ঘটনা দেখিয়ে গায়েবি মামলার পথ বেছে নিয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের অধিকাংশ ঘটনাস্থলে থাকা তো দূরের কথা, তারা কক্সবাজারেই নেই। মামলার আসামি রাশেদ মো. আলী তার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ৫ নম্বর আসামি লায়েক ইবনে ফাজেল ৩ বছর ধরে কাতারে রয়েছেন। এতেই প্রমাণিত হয় মামলটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও বিরোধী শক্তিকে দমনের জন্য করা হয়েছে।

 

Comments are closed.


     এই জাতীয় আরো খবর